অনেকেই আমাকে উৎসবকন্যা বলে ডাকে: বুবলী

News


ঈদের ছবি মানেই বুবলী- গত কয়েকটি ঈদে তা যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের ঈদও এর ব্যতিক্রম নয়। দেশব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিটি। আর এতে শাকিব খানের বিপরীতে রয়েছেন বুবলী। ছবি মুক্তি এবং ঈদের অন্যান্য প্রসঙ্গ বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই লাস্যময়ী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- শামছুল হক রাসেল

কোনো ভূমিকা না রেখেই সরাসরি প্রশ্নে চলে যাই, কী বলুন…
হা. হা.. হা… গুড গুড, ভেরি গুড। বলুন।

‘ক্যাপ্টেন খান’ শুনেই মনে হচ্ছে, এটা ‘খানসাহেব’ নির্ভর ছবি, এখানে বুবলীর কী কাজ?
হুম… আচ্ছা। বলিউড বলি কিংবা আমাদের ঢালিউড, এখানে খানসাহেবদের ব্যাপারটা একটু স্পেশালভাবেই থাকে। এটাই সত্যি। এখানে নায়িকাদেরও ভূমিকা থাকে। এ ছবিতে আমার কী ভূমিকা তা জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটা। এখন বলে দিলে মজাটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

নামটা যদি ‘ক্যাপ্টেন খান’ না হয়ে ‘মিসেস খান’ হতো তাহলে কিন্তু মন্দ হত না…
বাহ… খুব সুন্দর তো নামটা। এটা যদি আগে পরিচালকদের কানে যেত তাহলে তাহলে হয়তো ভেবে দেখতো।

ঈদ এলেই আপনার ছবি মুক্তি পায়- বিষয়টাকে কীভাবে উপভোগ করছেন? এ বিষয়ে কোনো শঙ্কা বা চ্যালেঞ্জ?
গত তিন বছর পরপর ঈদে আমার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এটি সত্যি অনেক ভালোলাগার একটা ব্যাপার। ঈদে খুশিটা যেমন থাকে সেই সাথে ছবি মুক্তির ব্যাপারটাও থাকে। সবকিছু মিলিয়ে বলবো অন্যরকম একটা ভালোলাগা কাজ করে। এ জন্য অনেকে উৎসবকন্যা নামও দিয়েছে।

সবগুলো ছবিতেই শাকিবের খানের মতো নায়ক, তাই নিজস্ব স্বকীয়তা প্রকাশ পায় কী?
দেখুন, একজন সুপারস্টারের সঙ্গে কাজ করতে গেলে চ্যালেঞ্জ কাজ করে। শাকিব খান অনেক বছর ধরে নিজেকে প্রমাণ করে এসেছেন। গত ৩/৪ বছর আরও ব্যক্তিক্রমভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। দর্শকদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা অন্যরকম। আমিও তার ভক্ত। আর এখন তার সঙ্গে যখন পর্দা ভাগাভাগি করছি। আমাকেও পাল্লা দিয়ে সহশিল্পী হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া আমি তো আর নায়কহীন কাজ করতে পারবো না। ছবিতে একজন নায়ক থাকবেই, স্বাভাবিক। এটা অনেক বড় পাওয়া যে অনেক বড় মাপের অভিনেতাকে সহশিল্পী হিসেবে পাচ্ছি। দর্শকরা গ্রহণ করছে বলেই পরিচালক-প্রযোজক অনেক টাকা লগ্নি করে আমাদেরকে জুটি হিসেবে ছবিতে নিচ্ছে। তাছাড়া নতুন হিরোর সাথে কাজ করলেই আমার স্বকীয়তা প্রকাশ হবে কী না সেটা বুঝতে পারছি না। আমি আমার চরিত্রে শতভাগ দেয়ার চেষ্টা করছি। অনেক কিছু জানছি, শিখছি।

অনেকে বলে শাকিবের কাঁধে বন্দুক রেখে আপনি গুলি ছুড়ছেন… 
সুপারস্টারদের সঙ্গে নায়িকারা কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। আবার নতুন হিরো-নতুন হিরোইন কাজ করবে এটাও স্বাভাবিক। শাকিব খান দেশে ও দেশের বাইরে অনেক নায়িকাদের সাথে কাজ করছেন। হয়তো আমি তার বাইরে এখনো কাজ করিনি বলেই দর্শকরা এমনটা বলছে। সঠিক সময়ে সঠিক প্রজেক্টের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি দর্শকরা আমাকে অন্য নায়কদের সঙ্গেও দেখতে পাবে।

‘সুপারহিরো’, ‘ক্যাপ্টেন খান’ নামগুলো কেমন জানি একই রকম মনে হচ্ছে…
আমাদের দেশে নারীকেন্দ্রিক ছবি হাতে গোনা। সেটা আমরা বলিউডেও দেখি। বলিউড ইন্ড্রাস্ট্রিটা অনেক বড়। অথচ সেখানেও নায়কদের ওপর নির্ভর করেই বেশিরভাগ ছবি হচ্ছে। ‘সুলতান’, ‘বজরঙ্গী ভাইজান’, ‘রাউডি রাঠোর’ সব মূল ধারার ছবিতে একই অবস্থা। এটা আগে থেকেই চলে আসছে। নারীকেন্দ্রিক ছবি খুব কম হয়। তারপরও আমি ২/১ টা ছবি পেয়েছি, যেমন ‘অহংকার’ ছবিটা ছিল। ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্যা মাইয়্যা’ ছবিতেও আমার ভূমিকা ছিল। অন্য ছবিগুলো হিরো নামভিত্তিক হলেও হিরোইনেরও কিন্তু ভূমিকা থাকে। এটা পরিচালকের ওপর নির্ভর করে, তারা কীভাবে ভাবছেন, কীভাবে চিত্রনাট্য সাজাচ্ছেন। সুপারস্টাররা যখন ছবিতে থাকে তখন তারা সেভাবেই চিন্তা করেন।

জুটি প্রথায় বিশ্বাসী…
এটা আসলে গল্পের ওপর নির্ভর করে। দর্শকরা যদি পছন্দ করেন, বড়পর্দায় যদি রসায়ন দেখতে ভালো লাগে, পরপর যদি কয়েকটা কাজ হয় সেখান থেকেই জুটির উৎপত্তি হয়। অনেক বড় বড় জুটি আছে যারা খুব অল্প কাজ করেছেন। যেমন শাহরুখ-কাজলের কথাই যদি ধরি তারা কিন্তু হাতে গোনা ৭/৮টা ছবি করেছেন। উত্তম-সুচিত্রা ১২/১৩টা ছবি করেছেন, অমিতাভ-রেখা করেছেন ১১টা। আমি সংখ্যা দিয়ে বিচার করি না। আমার কাছে মনে হয় ইতিবাচক।

‘ক্যাপ্টেন খান’ নিয়ে মজার কোনো অভিজ্ঞতা…
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ম্যাও ম্যাও’ গানটি ছবিতে অন্তর্ভূক্ত করার মূল পরিকল্পনাকারী শাকিব খান। থাইল্যান্ডে যখন গানটির দৃশ্যায়ন চলছিল সবাই খুব মজা করছিল। পুরো সেটে ‘ম্যাও ম্যাও’ শব্দগুলো কানে বাজছিল। থাইল্যান্ডের শিল্পীরাও এটা নিয়ে মজা করেছে।

এবার ঈদে হলে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে…
অবশ্যই, অবশ্যই। প্রত্যেকবারই আমি হলে গিয়ে ছবি দেখি। নিজের পাশাপাশি অন্য শিল্পী কী করছে হলে গিয়ে সেটা দেখার মধ্যে অন্যরকম একটা ভালো লাগা আছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *