বোমা ফাটালেন স্বস্তিকা, কী বললেন শ্রীলেখা?

Showbiz


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ওয়ালে শুক্রবার দুপুরে সহসা বিস্ফোরক ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। তিনি কী লিখেছেন সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে বিতর্কের ঘটনাক্রম এক বার দেখে নেওয়া যাক।

অনলাইন স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘হইচই’-এর অন্যতম জনপ্রিয় শো ‘দুপুর ঠাকুরপো’র প্রথম সিজন শেষ হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সিজন আসার কথা। হঠাৎ জানা গেল স্বস্তিকা সেই শো আর করবেন না। অভিনেত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখতে তিনি জানিয়েছিলেন, চিত্রনাট্য না পেলে তিনি শো করবেন না। শোয়ের পরিচালনা কে করছেন, সেটাও জানাতে হবে তাঁকে। নির্মাতা সংস্থা টিভিওয়ালা মি়ডিয়ার কাছ থেকে জবাব না পেয়ে শো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন স্বস্তিকা। অন্য দিকে নির্মাতারা নতুন মুখ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।

এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। কিন্তু টিভিওয়ালা মি়ডিয়ার কর্তৃপক্ষ অমিত গঙ্গোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে স্বস্তিকাকে একটি টেক্সট পাঠান। সেখানে তিনি অভিনেত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে ফের কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন। ঠিক এইখানেই আপত্তি স্বস্তিকার।

‘‘আমি শো ছেড়ে দিয়েছি, তার বদলে অন্য এক জন করবে। মিটে গেছে ব্যাপারটা। তার পরেও টেক্সট করে ন্যাকামি করার মানেটা কী! এরা চূড়ান্ত অপেশাদার বলেই কাজটা আর করছি না। আমার কাছ থেকে ডেট চাইছে আর সামান্য একটা চিত্রনাট্য পাঠাতে পারছেন না! গত চার-পাঁচ মাস ধরে ‘জানাচ্ছি’ বলে কাটিয়ে গেছে। ‘দুপুর ঠাকুরপো’তে চিত্রনাট্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক চুল এদিক-ওদিক হলে পুরোটা অশ্লীল মনে হবে! আমি মুখ্য ভূমিকায়। তাই প্রশ্ন, প্রশংসা, নিন্দা সবটাই আমার দিকে আসবে। সুতরাং শোয়ের কনটেন্ট নিয়ে আমাকে তো ভাবতে হবেই,’’ উত্তেজিত হয়ে বলছিলেন স্বস্তিকা।

‘দুপুর ঠাকুরপো’র প্রথম সিজনের পরিচালক ছিলেন দেবালয় ভট্টাচার্য। স্বস্তিকার কথায়, ‘‘দ্বিতীয় সিজনের পরিচালকের নামটাও ওরা বলতে পারেনি! টুকু জানার অধিকার একজন অভিনেত্রীর আছে। পেশাদারিত্বের ছিটেফোঁটা নেই। এদিকে রাত দুপুরে ফালতু মেসেজ করছে। আমি ‘দুপুর ঠাকুরপো’ নিয়ে কথা বলছি বলে ওদের পাবলিসিটি হচ্ছে, এটা আবার নিজেরাই নির্লজ্জের মতো বলছে! সত্যিই তো, আমি আজ পাবলিক ফোরামে না বললে ওদের নাম কেউ জানতেও পারত না। আমাকে ছাড়া ওদের যে আপস করেই শো চালাতে হচ্ছে, তা এই টেক্সটের বহর দেখেই বোঝা যাচ্ছে। এ রকম মেসেজ আগেও এসেছে। এবার মুখ না খুলে থাকতে পারলাম না। আমি না থাকলে ‘দুপুর ঠাকুরপো’ হিটও করত না।’’

স্বস্তিকার আপত্তি টিভিওয়ালা মিডিয়াকে নিয়েই। কিন্তু ‘হইচই’ যেহেতু ‘এসভিএফ’-এর, তাই তাদের সঙ্গেও অভিনেত্রীর সমস্যা রয়েছে বলে চর্চা চলছে। একই সময়ে তিনি বিরসা দাশগুপ্তর ছবির কাজও ছাড়েন। ফলে গুজব আরও বাড়তে থাকে। স্বস্তিকা অবশ্য বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘‘আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ‘এসভিএফ’-এর। ‘আমি আসবো ফিরে’র প্রচারও করছি। আসলে আমি ছাড়া তো আর কেউ এগুলো নিয়ে সোচ্চার হয় না। ভাবে, কাজ পাবে না। কিন্তু কোথাও প্রতিবাদ করা দরকার। একে বাজেট নেই, তার উপর চিত্রনাট্য দেবে না, নির্দেশকের ঠিক-ঠিকানা নেই, তা-ও নাকি কাজ করতে হবে! কোন সাহসে ভবিষ্যতে কাজ করতে চাওয়ার কথা বলে? আমি অন্তত এই সংস্থার সঙ্গে আর কাজ করব না।’’

এটা কিন্তু বির্তকের একটা পিঠ। আর এক দিকে রয়েছে শ্রীলেখাকে কেন্দ্র করে অন্য ঘটনা। খবর বলছে, শ্রীলেখাও ‘দুপুর ঠাকুরপো’ করছেন না। তার বদলে কাজ করছেন মোনালিসা নামে এক ভোজপুরি অভিনেত্রী। এর আগে ‘বিগ বস’-এ দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কেন হঠাৎ ঘটনার এমন দিক পরিবর্তন? শ্রীলেখাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিন্তু খুলে কিছু বললেন না। শুধু জানালেন, আগামী সপ্তাহে গোটা বিষয়টা নিয়ে একটা সাংবাদিক বৈঠক করতে চান তিনি। বেশ কিছু অন্যায় তাঁর চোখে পড়েছে, যার প্রতিকার চান অভিনেত্রী। বিষয়বস্তুর কয়েকটা জিনিস অপছন্দ হয়েছে বলেই শো করতে চাননি তিনি।

আবার ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, শ্রীলেখাকে প্রাথমিকভাবে পছন্দ হলেও শেষ পর্যন্ত চরিত্রটির গড়নের সঙ্গে বেমানান বলে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রযোজনা সংস্থা থেকেই! তবে এ বিষয়ে টিভিওয়ালা মিডিয়ার অমিত গঙ্গোপাধ্যায় এবং দ্বিতীয় সিজনের পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী কেউই কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বিডি-প্রতিদিন/০৭ এপ্রিল, ২০১৮/মাহবুব


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *